Verified Insights for Your Next Career Step

Join us on Telegram

Join Now

Join us on Whatsapp

Join Now

সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটির প্রকারভেদ: পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলী ও মঞ্জুরির গাইড

সরকারি ছুটির প্রকারভেদ ২০২৬: বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের জন্য ছুটি কেবল কর্মজীবনের একটি বিরতি নয়, এটি তাদের অধিকার এবং কর্মজীবনের সুশৃঙ্খল অংশ। বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস এবং বিভিন্ন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের ছুটির নিয়মাবলী নিয়ন্ত্রিত হয়। এই নিয়মগুলো বেশ বিস্তৃত এবং ছুটির প্রকারভেদগুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকলে, কর্মজীবনে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে ছুটি নেওয়া কঠিন হতে পারে।

সরকারি ছুটির প্রকারভেদ ২০২৬

একজন সরকারি চাকরি প্রতিবেদক হিসেবে দেখেছি, অনেকেই তাদের প্রাপ্য ছুটি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত থাকেন না। অর্জিত ছুটি, শ্রান্তি বিনোদন, এমনকি অসাধারণ ছুটির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলো নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।

চলুন, ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে সরকারি ছুটির প্রধান প্রকারভেদ, তাদের প্রাপ্যতার শর্ত এবং মঞ্জুরির নিয়মাবলী বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

ছুটির প্রকারভেদ: প্রধান দুটি শ্রেণিবিন্যাস

সরকারি চাকরিজীবীদের ছুটি বোঝার সুবিধার্থে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়: ১. ক্যালেন্ডারভিত্তিক ছুটি এবং ২. কর্মকালীন ছুটি (প্ৰাপ্যতা সাপেক্ষ)

১. ক্যালেন্ডারভিত্তিক ছুটি (সবার জন্য প্রযোজ্য)

এই ছুটিগুলো সরকার বা কর্তৃপক্ষ দ্বারা নির্ধারিত হয় এবং সাধারণত কোনো ব্যক্তিগত আবেদনের প্রয়োজন হয় না।

ক. সাধারণ ছুটি (General Holiday)

  • প্রকৃতি: এটি মূলত উৎসব-অনুষ্ঠান বা জাতীয় দিবস পালনের জন্য সরকারিভাবে ঘোষিত ছুটি, যা সকল সরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান এবং কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য ও বাধ্যতামূলক।
  • প্রাপ্যতা: কোনো আবেদনের প্রয়োজন হয় না।
  • উদাহরণ: স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদুল ফিতর, দুর্গাপূজা।

খ. নির্বাহী আদেশের ছুটি

  • প্রকৃতি: এটি সরকারি গেজেটের মাধ্যমে নির্বাহী আদেশে জারি করা হয়। এই ছুটি সাধারণ ছুটির মতোই বিবেচিত হয়, তবে বিশেষ কোনো উপলক্ষ বা স্থানীয় কারণে এটি ঘোষণা করা হয়।
  • প্রাপ্যতা: কোনো আবেদনের প্রয়োজন হয় না।
  • উদাহরণ: নির্বাচনের পরের দিন বা বিশেষ কোনো শোক দিবস।

গ. ঐচ্ছিক ছুটি (Optional Leave)

  • প্রকৃতি: এটি একজন কর্মচারী তার নিজের ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিশেষ উৎসব পালনের জন্য আবেদন সাপেক্ষে মঞ্জুর করতে পারেন।
  • নিয়ম: একজন কর্মচারী এক বছরে তার ধর্ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিনটি (৩টি) ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করতে পারেন।
  • মঞ্জুরি: এই ছুটি পেতে হলে পূর্বানুমতি নিয়ে সাধারণত বছরের শুরুতে (ডিসেম্বরের মধ্যে) আবেদন করতে হয় এবং কর্তৃপক্ষ অনুমোদন সাপেক্ষে এটি মঞ্জুর করে।

ছুটি থেকে আরওঐচ্ছিক ছুটি: ঐচ্ছিক ছুটি কী? আবেদন করার নিয়ম ও সময়সীমা

২. কর্মকালীন ছুটি: প্রাপ্যতার ভিত্তিতে শ্রেণিবিভাগ

এই ছুটিগুলো একজন কর্মীর কর্মকালীন সময়ের ভিত্তিতে এবং তার ছুটির অ্যাকাউন্টে জমার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

ক. নৈমিত্তিক ছুটি (Casual Leave)

  • প্রকৃতি: এটি সাধারণত প্রতিদিনের কাজের জন্য প্রযোজ্য। আকস্মিক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বা স্বল্প সময়ের জন্য এই ছুটি নেওয়া হয়।
  • প্রাপ্যতা: বছরে সাধারণত ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি প্রাপ্য।
  • গুরুত্বপূর্ণ শর্ত: এটি ছুটির (Leave) সংজ্ঞা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, বরং এটি হলো কর্মে অনুপস্থিত থাকার অনুমতি। তাই এই ছুটি জমা হয় না বা অগ্রিম নেওয়া যায় না। সাধারণত একবারে ১০ দিনের বেশি নেওয়া যায় না।
  • মঞ্জুরি: তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক বা লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে নেওয়া যায়।

খ. অর্জিত ছুটি (Earned Leave)

  • প্রকৃতি: এটি কর্মচারী প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক দিন হিসেবে অর্জন করেন এবং এটি জমা রাখা যায়।
  • নিয়ম: প্রতি ২২ দিন কর্মজীবনের জন্য ১ দিন পূর্ণ বেতনে অর্জিত ছুটি জমা হয়।
  • সঞ্চয়ের সীমা: পূর্ণ বেতনে অর্জিত ছুটি সাধারণত সর্বোচ্চ ৪ মাস পর্যন্ত জমা রাখা যায়।
  • সুবিধা: এই ছুটি জমা রেখে অবসর গ্রহণের আগে ‘নগদায়ন’ (Encashment) করার সুযোগ থাকে।

গ. অসুস্থতাজনিত ছুটি ও চিকিৎসা ছুটি

  • প্রকৃতি: অসুস্থ হলে এই ছুটি ভোগ করা যায়। যখন কোনো কর্মচারীর অর্জিত ছুটি জমা থাকে না, তখন চিকিৎসার প্রয়োজনে বিশেষ ছুটি মঞ্জুর হতে পারে।
  • শর্ত: অবশ্যই একজন স্বীকৃত ডাক্তার বা মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত মেডিকেল সার্টিফিকেট বা বোর্ডের রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
  • সুবিধা: অসুস্থতার ধরণ ও ছুটির প্রাপ্যতার ভিত্তিতে পূর্ণ বেতনে বা অর্ধ-গড় বেতনে এই ছুটি পাওয়া যেতে পারে।

ঘ. শ্রান্তি বিনোদন ছুটি (Recreation Leave)

  • প্রকৃতি: কর্মচারীকে কর্মজীবনে দীর্ঘ সময় পর মানসিক ও শারীরিক বিশ্রাম দেওয়ার জন্য এই বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়।
  • নিয়ম: প্রতি তিন বছর পর পর একজন কর্মচারী ১৫ দিনের জন্য এই ছুটি ভোগ করতে পারেন।
  • সুবিধা: এই ছুটির জন্য কর্মচারী পূর্ণ বেতনের সাথে অতিরিক্ত শ্রান্তি ভাতা (Leave Allowance) পান। এটিও অর্জিত ছুটি থেকে নেওয়া হয়।

ঙ. প্রসূতি ছুটি (Maternity Leave)

  • প্রকৃতি: মহিলা কর্মচারীদের জন্য মাতৃত্বকালীন সময়ে এই ছুটি প্রযোজ্য।
  • নিয়ম: বর্তমানে একজন মহিলা কর্মচারী পূর্ণ বেতনে ৬ মাস (১৮০ দিন) মাতৃত্বকালীন ছুটি পান।
  • প্রাপ্যতা: কর্মজীবনে সর্বোচ্চ দুবার এই ছুটি নেওয়া যায়।

গ. বিশেষ পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক ছুটি

গুরুতর বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এই ছুটিগুলো মঞ্জুর করা হয়।

চ. অসাধারণ ছুটি

  • প্রকৃতি: যখন কোনো কর্মচারীর অন্য কোনো ছুটি প্রাপ্য থাকে না, বা অন্য কোনো ছুটি পাওনা থাকে কিন্তু তিনি লিখিতভাবে এই অস্বাভাবিক ছুটির জন্য আবেদন করেন, তখন তাকে এই ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
  • সুবিধা: এই ছুটির সময় কোনো বেতন বা ভাতা দেওয়া হয় না।
  • শর্ত: সাধারণত কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনার ভিত্তিতে এবং নির্দিষ্ট কারণ (যেমন: উচ্চশিক্ষা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান) সাপেক্ষে এটি মঞ্জুর করা হয়।

ছ. অক্ষমতাজনিত ছুটি

  • প্রকৃতি: সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো আঘাত বা দুর্ঘটনার কারণে বিশেষ অক্ষমতার ক্ষেত্রে এই ছুটি মঞ্জুর করা হয়।
  • শর্ত: উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক শারীরিক অক্ষমতার প্রমাণ সাপেক্ষে এই ছুটি দেওয়া হয়।
  • সুবিধা: এই ছুটির সময় কর্মচারী পূর্ণ বেতন ও ভাতা পেতে পারেন, এবং এর নিয়মাবলী অন্যান্য ছুটি থেকে ভিন্ন।

ছুটি মঞ্জুরির নিয়মাবলী ও আবেদন প্রক্রিয়া

ছুটি মঞ্জুরির ক্ষমতা নির্ভর করে ছুটির ধরণ এবং কর্মচারীর পদমর্যাদার ওপর।

১. ছুটি মঞ্জুরির কর্তৃপক্ষ

  • সাধারণত: কর্মীর সরাসরি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ (Head of the Office বা Head of the Department) নৈমিত্তিক ছুটি এবং স্বল্পমেয়াদী ছুটি মঞ্জুরির ক্ষমতা রাখেন।
  • দীর্ঘ ছুটি: অর্জিত ছুটি, অসাধারণ ছুটি, বা দীর্ঘ মেয়াদের ছুটির ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা (যেমন সচিব, মহাপরিচালক) মঞ্জুরি দিয়ে থাকেন।

২. আবেদন প্রক্রিয়ার মূল কথা

  • পূর্বানুমতি অত্যাবশ্যক: নৈমিত্তিক ছুটি ছাড়া অন্যান্য ছুটি (অর্জিত, শ্রান্তি বিনোদন, প্রসূতি ইত্যাদি) নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই পূর্বানুমতি নিতে হয়।
  • সময়ানুবর্তিতা: ঐচ্ছিক ছুটি, শ্রান্তি বিনোদন এবং অর্জিত ছুটি সাধারণত বছর শুরু হওয়ার আগেই বা বেশ কয়েক মাস আগে আবেদন করতে হয়।
  • কারণ ও ডকুমেন্টেশন: অসুস্থতাজনিত বা প্রসূতি ছুটির ক্ষেত্রে অবশ্যই যথাযথ মেডিকেল ডকুমেন্ট বা সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ছুটির অধিকার একটি বিস্তৃত আইনি কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত। ২০২৬ সালের জন্য সাধারণ ও নির্বাহী ছুটি গেজেটে প্রকাশিত হবে। তবে একজন কর্মচারী হিসেবে অর্জিত ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি, শ্রান্তি বিনোদন এবং বিশেষ ছুটিগুলোর নিয়মাবলী সম্পর্কে অবগত থাকা এবং নিয়মানুযায়ী সঠিক সময়ে আবেদন করা অত্যাবশ্যক। আপনার এই জ্ঞান শুধু আপনার অধিকারই রক্ষা করবে না, বরং আপনার কর্মজীবনের সুশৃঙ্খলতাও নিশ্চিত করবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের অর্জিত ছুটি নগদায়ন (Encashment) এবং পেনশন-পূর্ববর্তী ছুটির নিয়মাবলী সম্পর্কে একটি বিস্তারিত গাইড চান?
প্রকাশক: আলো ঘর এডিটোরিয়াল টিম

[আলো ঘর] বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় মাল্টি-নিস ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। আমরা খবর, শিক্ষা, ক্যারিয়ার, প্রযুক্তি এবং গ্লোবাল সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য—জ্ঞানের আলোয় আপনার ভবিষ্যৎ আলোকিত করা।

Related Posts

NPCBL Job Circular 2026

NPCBL Job Circular 2026: নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট নিয়োগ ২০২৬

SSC 2026 syllabus

2026 SSC Syllabus: ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস

ইসলামী-ব্যাংক-ফাউন্ডেশন

ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার নিয়োগ: রাজশাহীতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ