দাখিল রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ২০২৬: আপনি কি ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের দাখিল পরীক্ষার্থী এবং ২০২৫ সালের পরীক্ষায় দুর্ভাগ্যবশত এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন? ভাবছেন শিক্ষাজীবন হয়তো এখানেই থমকে গেল? দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই! বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আপনাকে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের এক বিশেষ সুযোগ দিচ্ছে।
দাখিল রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ২০২৬: এক বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের করণীয়
তবে সাবধান, এই সুযোগটিই হয়তো আপনার শেষ ভরসা। রেজিস্ট্রেশন নবায়নের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি মিস করলে ২০২৬ সালের ফরম পূরণের সময় আপনার নাম আসবে না, ফলে শিক্ষাজীবনের মূল্যবান একটি বছর নষ্ট হতে পারে।
গত ৩ ডিসেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ ২০২৫ সালে শেষ হয়ে গেছে, তারা নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে ২০২৬ সালের পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে পারবেন। আলো ঘর-এর শিক্ষা ডেস্ক থেকে আজকের এই গাইডে আমরা নবায়ন প্রক্রিয়া, ফি এবং সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
কারা রেজিস্ট্রেশন নবায়নের সুযোগ পাচ্ছেন? (যোগ্যতা)
এই বিশেষ সুবিধাটি সবার জন্য নয়। বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে কারা Dakhil registration renewal 2026-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- শিক্ষাবর্ষ: শুধুমাত্র ২০২১-২০২২ সেশনের শিক্ষার্থীরা।
- পরীক্ষার ফলাফল: যারা ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় ৪র্থ বিষয় বাদে মাত্র এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।
- মেয়াদ: যাদের রেজিস্ট্রেশনের ৫ বছর মেয়াদ ২০২৫ সালে শেষ হয়ে গেছে, তাদের অবশ্যই নবায়ন করতে হবে।
যাদের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এখনো আছে (যেমন ২০২৩-২৪ সেশন), তাদের নবায়ন করার প্রয়োজন নেই।
রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ফি ও সময়সীমা (চার্ট)
শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা এবং টাকার পরিমাণ নিচে একটি ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো। মনে রাখবেন, বিলম্ব ফি এড়াতে প্রথম ধাপে কাজ শেষ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
| ধাপ | সময়সীমা | ফি (জনপ্রতি) |
| সাধারণ সময়সীমা | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত | ২০০ টাকা |
| বিলম্ব ফিসহ সময়সীমা | ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত | ৩০০ টাকা (২০০ + ১০০ বিলম্ব ফি) |
আরও পড়ুন: বিসিএস ক্যাডার তালিকা, যোগ্যতা ও বিসিএস প্রস্তুতি: প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা পর্যন্ত (A-Z গাইড)
রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করার ধাপসমূহ (Step-by-Step Guide)
রেজিস্ট্রেশন নবায়নের প্রক্রিয়াটি একটু টেকনিক্যাল। ভুল এড়াতে নিচের ধাপগুলো মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করুন।
ধাপ ১: মাদ্রাসায় যোগাযোগ ও আবেদন
প্রথমে নিজ নিজ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বা সুপারিনটেনডেন্ট বরাবর রেজিস্ট্রেশন নবায়নের জন্য একটি লিখিত আবেদন করতে হবে। সেখানে আপনার পূর্বের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, রোল নম্বর এবং অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করুন।
ধাপ ২: সোনালী ব্যাংকে ডিমান্ড ড্রাফট
ফি জমা দেওয়ার জন্য সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ‘রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা’-এর অনুকূলে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট করতে হবে।
-
সতর্কতা: রশিদে শিক্ষার্থীর নাম এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে লেখা হয়েছে কি না, তা যাচাই করে নিন। Sonali Bank demand draft rules মেনে চলুন।
ধাপ ৩: বোর্ডে কাগজপত্র জমাদান
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আবেদন এবং ব্যাংক ড্রাফট সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন শাখায় জমা দেবে। এটি সাধারণত প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
১. মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং এর ফটোকপি। ২. মাদ্রাসার প্যাডে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের তালিকা (বোর্ড ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট করা)। ৩. ব্যাংক ড্রাফটের মূল কপি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বৃত্তি ২০২৫: অনার্স ও ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান
রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করলে কী ক্ষতি হবে? (সতর্কতা)
অনেক শিক্ষার্থী ভাবেন, ফরম পূরণের সময় টাকা দিলেই হবে। এটি একটি মারাত্মক ভুল ধারণা।
- ফরম পূরণ বাতিল: আপনি যদি ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন নবায়ন না করেন, তবে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় ডাটাবেসে আপনার নাম শো করবে না।
- বছর লস: নাম না আসলে আপনি পরীক্ষায় বসতে পারবেন না, ফলে শিক্ষাজীবনে গ্যাপ পড়ে যাবে।
আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তে বোর্ডে দৌড়াদৌড়ি করেও লাভ হয় না। তাই এখনই সাবধান হোন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: আমি কি ২ বিষয়ে ফেল করলে নবায়ন করতে পারব? উত্তর: না। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ১ বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরাই এই সুযোগ পাবেন।
প্রশ্ন ২: টাকা জমা দেওয়ার ব্যাংক কোড কত? উত্তর: রেজিস্ট্রেশন নবায়নের জন্য সাধারণত নির্দিষ্ট ব্যাংক কোড থাকে না, এটি পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে ‘রেজিস্ট্রার’ বরাবর জমা দিতে হয়।
প্রশ্ন ৩: ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষা কবে হবে? উত্তর: সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি বা মার্চ মাসে পরীক্ষা হতে পারে। Dakhil exam 2026 update জানতে আমাদের সাথে থাকুন।
দাখিল রেজিস্ট্রেশন নবায়ন ২০২৬ হলো অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ সুযোগ। হতাশা ঝেড়ে ফেলে আজই মাদ্রাসায় যোগাযোগ করুন এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ফি জমা দিয়ে নিশ্চিন্ত হোন। মনে রাখবেন, একটি সঠিক পদক্ষেপ আপনার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।
শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো নোটিশ এবং গাইডলাইন সবার আগে পেতে আলো ঘর-এর সাথেই থাকুন।
আরও পড়ুন: বিপিএল টিকিটের দাম ২০২৬: অনলাইন ও ব্যাংকে টিকেট কেনার নিয়ম (পূর্ণাঙ্গ গাইড)


