Bangladesh Bank loan rescheduling: ব্যবসায়ীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ পুনঃতফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি এক্সিট পলিসিতে বা ঋণ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুবিধায় বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতারা এখন ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তাদের খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ পাবেন। এর আগে এই সময়সীমা ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (BRPD) থেকে এ সংক্রান্ত একটি নতুন সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
গত সরকারের আমলে যেসব ব্যবসায়ীর ব্যবসা অনিয়ন্ত্রিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাদের বিশেষ বিবেচনায় মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি বিশেষ ঋণ পুনর্গঠনের সময়সীমাও বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করা হয়েছে।
এক্সিট পলিসিতে বড় পরিবর্তন: তাৎক্ষণিক স্ট্যাটাস আপগ্রেড
কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের এক্সিট পলিসিতে বা ঋণ অবলোপন সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
আগের নিয়মে, কোনো গ্রাহক এক্সিট সুবিধা নিলেও পুরো টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত তিনি ‘খেলাপি’ (Classified) হিসেবেই গণ্য হতেন।
চার বছরের এক্সিট পিরিয়ডে টাকা শোধ করলেও তার ঋণের স্ট্যাটাস পরিবর্তন হতো না।
কিন্তু নতুন নিয়মে, কোনো গ্রাহক এক্সিট সুবিধা গ্রহণ করলেই তার লোনের স্ট্যাটাস বা মানোন্নয়ন করা হবে।
অর্থাৎ, পুনঃতফসিলের মতোই তাকে আর খেলাপি বলা হবে না এবং তিনি সিআইবি (CIB) রিপোর্টে নিয়মিত গ্রাহক হিসেবে গণ্য হবেন। এটি classified loan exit policy-তে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।
কিস্তি পরিশোধের নতুন কঠোর নিয়ম
সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক কিস্তি আদায়ে কঠোরতাও আরোপ করেছে। আগে অনেক গ্রাহক এক্সিট সুবিধা নিয়ে ৪ বছর পর একবারে সব টাকা শোধ করতেন।
নতুন BRPD circular অনুযায়ী এই সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। এখন ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ত্রৈমাসিক বা তিন মাস পর পর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
বছরের শেষে মোট পাওনা টাকার অন্তত ২০ শতাংশ পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।
যদি কোনো গ্রাহক পরপর তিন মাস বা এক প্রান্তিকেই কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে আবারও খেলাপি বা ডিফন্টার হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।
ঋণ সংক্রান্ত আপডেট এবং অর্থনৈতিক খবর জানতে আমাদের Latest News বিভাগে চোখ রাখুন।
নতুন ঋণ নয়, তবে মিলবে এলসি সুবিধা
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যারা এই নতুন এক্সিট স্কিমের আওতায় আসবেন, তারা ব্যাংক থেকে নতুন কোনো ফান্ডেড ঋণ (নগদ টাকা) নিতে পারবেন না।
তবে তাদের ব্যবসার চাকা সচল রাখতে নন-ফান্ডেড সুবিধা, যেমন—লেটার অব ক্রেডিট (LC) বা ব্যাংক গ্যারান্টি খোলার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এটি আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের জন্য LC opening rules for defaulters-এর ক্ষেত্রে একটি বড় স্বস্তি।
ব্যাংকারদের প্রতিক্রিয়া ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মো. তৌহিদুল আলম খান এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত গ্রাহকরাও এই সার্কুলারের আওতায় তাদের ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, ব্যাংকগুলো এই সার্কুলার ব্যবহার করে গ্রাহক সম্পর্ক উন্নয়ন করতে পারবে এবং উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক এক্সিট প্ল্যান তৈরি করতে পারবে।
সামগ্রিকভাবে, এটি বাংলাদেশ ব্যাংক-এর একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ যা আর্থিক স্বাস্থ্য এবং স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
ঋণগ্রহীতাদের করণীয় ও সতর্কতা
যারা এই loan rescheduling facility Bangladesh নিতে চান, তাদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে।
সময়মতো কিস্তি পরিশোধ না করলে সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে, তাই আর্থিক পরিকল্পনা আগে থেকেই করে রাখা জরুরি।
যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে মূল সার্কুলারটি দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলো।
ব্যবসায়িক বা ব্যাংকিং ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীরা আমাদের Career Guide বিভাগটি দেখতে পারেন।
এস এ শাকিল, স্টাফ রিপোর্টার (লেটেস্ট নিউজ): [আলো ঘর]-এর সর্বশেষ সংবাদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনি দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনা ও ব্রেকিং নিউজ নিয়ে নির্ভুল তথ্য সরবরাহে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: সরকারি ছুটির তালিকা ২০২৬: ক্যালেন্ডার, পরিকল্পনা ও বিধিমালা


