কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে: উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে, কিন্তু নানা কারণে পড়াশোনায় বিরতি বা ‘স্টাডি গ্যাপ’ পড়ে যায়। তখন শিক্ষার্থীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জাগে, কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে? কিংবা ডিগ্রিতে ভর্তির ক্ষেত্রে কত বছরের বিরতি গ্রহণযোগ্য? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়মাবলি প্রতি বছর কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। তবে সাধারণ নিয়মগুলো জানা থাকলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়।
কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে
মূলত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স কোর্সে ভর্তির জন্য এইচএসসি পাসের পর সর্বোচ্চ ১ বছরের গ্যাপ গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ, আপনি যদি সেকেন্ড টাইমার হন, তবেই অনার্সে আবেদন করতে পারবেন। তবে ডিগ্রি (পাস) কোর্স এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি অনেক শিথিল। আলো ঘর-এর শিক্ষা ডেস্ক থেকে আজকের এই গাইডে আমরা অনার্স, ডিগ্রি এবং মাস্টার্সে ভর্তির গ্যাপ, যোগ্যতা এবং নিয়মাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে? (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, অনার্স (Honours) প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য শিক্ষাজীবনে খুব বেশি গ্যাপ রাখা যায় না। সাধারণত এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাসের সাল হতে হয় আবেদনের বছর বা তার আগের বছর।
উদাহরণস্বরূপ: যদি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়, তবে আবেদন করতে পারবেন:
- এইচএসসি: ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে উত্তীর্ণরা।
- এসএসসি: ২০২২ এবং ২০২৩ সালে উত্তীর্ণরা।
অর্থাৎ, এইচএসসি পাসের পর মাত্র ১ বছর গ্যাপ দিয়ে বা ‘সেকেন্ড টাইম’ (Second Time) পরীক্ষা দিয়ে অনার্সে ভর্তি হওয়া সম্ভব। এর বেশি গ্যাপ থাকলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত অনার্সে আবেদন করা যায় না। তবে National University admission rules অনুযায়ী প্রফেশনাল কোর্সে ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্স ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৬: আবেদন শুরু
কত বছর গ্যাপ দিয়ে ডিগ্রি করা যাবে?
যারা অনার্সে ভর্তির সুযোগ পাননি বা পড়াশোনায় দীর্ঘ বিরতি পড়েছে, তাদের জন্য ডিগ্রি (Degree Pass Course) একটি চমৎকার বিকল্প। ডিগ্রিতে ভর্তির ক্ষেত্রে গ্যাপের নিয়মটি অনেক নমনীয়।
Degree admission eligibility বা যোগ্যতা অনুযায়ী:
- এইচএসসি পাসের পর সাধারণত ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত গ্যাপ থাকলেও ডিগ্রিতে আবেদন করা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫-২৬ সেশনে ভর্তির জন্য ২০২১, ২০২২, ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের এইচএসসি পাস শিক্ষার্থীরাও আবেদন করতে পারেন (সার্কুলার ভেদে পরিবর্তন হতে পারে)।
তাই যাদের গ্যাপ ২ বছরের বেশি, তারা অনার্সের আশা বাদ দিয়ে সরাসরি ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। পরবর্তীতে ডিগ্রির পর মাস্টার্স করে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা সম্ভব।
অনার্স ভর্তির যোগ্যতা ও জিপিএ (
Eligibility Criteria: শুধুমাত্র গ্যাপ থাকলেই হবে না, ভর্তির জন্য নির্দিষ্ট জিপিএ থাকাও বাধ্যতামূলক। মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য আলাদা যোগ্যতা চাওয়া হয়।
একনজরে অনার্স ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা
| শাখা | এসএসসি জিপিএ | এইচএসসি জিপিএ | মোট জিপিএ |
| মানবিক | ৩.৫০ | ৩.০০ | ৬.৫০+ |
| বিজ্ঞান | ৩.৫০ | ৩.৫০ | ৭.০০+ |
| ব্যবসায় শিক্ষা | ৩.৫০ | ৩.৫০ | ৭.০০+ |
(নোট: এটি সাধারণ মানদণ্ড। প্রতিটি কলেজের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই যোগ্যতা কম-বেশি হতে পারে।)
অনার্সের পর কত বছর গ্যাপ দিয়ে মাস্টার্স করা যায়?
অনার্স শেষ করার পর অনেকেই চাকরি বা পারিবারিক কারণে মাস্টার্সে ভর্তি হতে দেরি করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, অনার্স পাসের পর মাস্টার্স (নিয়মিত) কোর্সে ভর্তির জন্য সাধারণত ২ থেকে ৩ বছরের গ্যাপ গ্রহণযোগ্য।
তবে, আপনি যদি Masters admission after gap বা দীর্ঘ বিরতির পর মাস্টার্স করতে চান, তবে ‘মাস্টার্স প্রাইভেট’ বা প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। সেখানে গ্যাপের সময়সীমা আরও বেশি শিথিল থাকে। এছাড়া উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (Open University) বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাপ নিয়ে তেমন কড়াকড়ি নেই।
আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষা গাইড: স্কলারশিপ ও আবেদন প্রক্রিয়ার A-Z
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গ্যাপ নিয়ম
যদি আপনার স্টাডি গ্যাপ অনেক বেশি হয় (যেমন ৫-১০ বছর) এবং আপনি অনার্সই করতে চান, তবে পাবলিক বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ভরসা হলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশে ইউজিসি অনুমোদিত অনেক private university admission BD রয়েছে, যেখানে ৫-১০ বছরের গ্যাপ থাকলেও অনার্সে ভর্তি হওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রে ‘স্টাডি গ্যাপ সার্টিফিকেট’ বা যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শাতে হতে পারে। চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চাইলে এটি একটি ভালো অপশন।
অনার্স করতে কত বছর লাগে?
সাধারণত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সের মেয়াদ ৪ বছর। তবে সেশন জট (Session Jam) বা পরীক্ষার দেরির কারণে এটি শেষ করতে ৫ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
অন্যদিকে, ডিগ্রি (পাস) কোর্সের মেয়াদ ৩ বছর। ডিগ্রির পর ১ বা ২ বছরের মাস্টার্স করে আপনি অনার্সের সমমান মর্যাদা পেতে পারেন। আপনার শিক্ষাজীবনের পরিকল্পনা সাজাতে আমাদের Career Guide বিভাগটি দেখতে পারেন।
কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে—এই প্রশ্নের উত্তর মূলত নির্ভর করছে আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে পড়তে চাইছেন তার ওপর। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ বছরের বেশি গ্যাপ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ডিগ্রিতে ৩-৪ বছর এবং প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে আরও দীর্ঘ গ্যাপ দিয়েও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।
হতাশ না হয়ে আপনার গ্যাপ এবং জিপিএ অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করুন। শিক্ষা এবং ভর্তি সংক্রান্ত যেকোনো আপডেট ও পরামর্শের জন্য আলো ঘর-এর সাথেই থাকুন।
আকাশ মাহমুদ, শিক্ষা বিভাগীয় প্রধান: [আলো ঘর]-এর শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনি গত ৫ বছর ধরে শিক্ষা বোর্ড, ভর্তি পরীক্ষা এবং শিক্ষানীতি নিয়ে গভীর বিশ্লেষণধর্মী সংবাদ পরিবেশন করে আসছেন।
“আপনার স্টাডি গ্যাপ কত বছরের? ভর্তি নিয়ে কোনো জটিলতায় পড়লে আমাদের কমেন্টে জানান, আমরা সমাধানের চেষ্টা করব।”
আরও পড়ুন: কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২৬: আবেদন শুরু ২৫ নভেম্বর, জানুন পরীক্ষার তারিখ ও বিস্তারিত



2 thoughts on “কত বছর গ্যাপ দিয়ে অনার্স করা যাবে: ভর্তির যোগ্যতা ও মাস্টার্সের নিয়ম (A-Z গাইড)”