সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদন: দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাংক হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন পেল ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে রক্ষা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বোর্ড সভায় আজ রবিবার (৩০ নভেম্বর) এই ঐতিহাসিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদন
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, মোট পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে নতুন এই ব্যাংকটি গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। আলো ঘর-এর অর্থনীতি ডেস্ক থেকে আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা নতুন ব্যাংকের আর্থিক কাঠামো, একীভূতকরণের কারণ এবং এর বাজার প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংক এবং সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট
এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো যখন দেশের ব্যাংকিং সেক্টর খেলাপি ঋণ ও তারল্য সংকটে ভুগছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, বারবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরও এই পাঁচটি ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। বরং শেয়ারবাজারে তাদের শেয়ারের দাম ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং প্রায় সব ব্যাংকের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (NAV) এখন ঋণাত্মক।
একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকা
পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে নতুন এই প্রতিষ্ঠানটি গঠন করা হয়েছে: ১. ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ২. গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ৩. সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৪. এক্সিম ব্যাংক ৫. ইউনিয়ন ব্যাংক
নতুন ব্যাংকের আর্থিক ও মূলধনী কাঠামো
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মূলধনী কাঠামো নিয়ে বাজারে আসছে, যা দেশের ইতিহাসে প্রায় নজিরবিহীন।
পেইড-আপ ক্যাপিটাল
নতুন ব্যাংকটির মোট পেইড-আপ ক্যাপিটাল বা পরিশোধিত মূলধন হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার সরাসরি দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকা, আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আসছে দুর্বল ব্যাংকগুলোর আমানতকারীদের শেয়ার থেকে।
অনুমোদিত মূলধন
প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৯ নভেম্বর প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের। এই বিশাল মূলধনের লক্ষ্য হলো একীভূত হওয়ার কারণে সৃষ্ট কোনো আর্থিক ঝুঁকি যেন নতুন ব্যাংকটির ওপর না পড়ে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিল: সময় বাড়ল ৩০ নভেম্বর, এক্সিট পলিসিতে বড় সুবিধা
অর্থনীতিতে প্রভাব ও বিশেষজ্ঞ মতামত
এই একীভূতকরণ বা Bank merger strategy BD দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একটি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দুর্বল ব্যাংকগুলোকে উদ্ধার ও ইসলামী ব্যাংকিং খাতে আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আস্থা পুনরুদ্ধার: বারবার তারল্য সহায়তা দেওয়া সত্ত্বেও যখন আমানতকারীরা তাদের অর্থ নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন, তখন সরকারের এই ২০ হাজার কোটি টাকার সরাসরি ইনজেকশন বাজারে একটি শক্তিশালী ইতিবাচক বার্তা দেবে।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা: এই পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকিং সিস্টেমের ওপর চাপ কমবে এবং banking sector stability news ইতিবাচক দিকে মোড় নেবে। দুর্বল ব্যাংকের বোঝা এখন একটি সম্মিলিত শক্তিশালী কাঠামো বহন করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন ব্যাংকটি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে।
ব্যাংকার ও চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য বার্তা
ব্যাংকিং সেক্টরের এই পরিবর্তন আপাতদৃষ্টিতে চাকরিজীবীদের জন্য কিছুটা অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ভালো। নতুন ব্যাংকটিতে হয়তো জনবল পুনর্গঠন হতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ায় এখানে ব্যাংক জব সার্কুলার ২০২৬ বা নিয়োগের সুযোগ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।
যারা ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এখনকার সময়টা হলো ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালা এবং দেশের অর্থনীতির খুঁটিনাটি নিয়ে গভীরভাবে পড়াশোনা করার। এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা পেতে আমাদের Career Guide বিভাগটি দেখতে পারেন।
এস এ শাকিল, স্টাফ রিপোর্টার (লেটেস্ট নিউজ): [আলো ঘর]-এর সর্বশেষ সংবাদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনি দেশ-বিদেশের সমসাময়িক ঘটনা ও ব্রেকিং নিউজ নিয়ে নির্ভুল তথ্য সরবরাহে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন: HSC Scholarship 2025 Result: মেধাবৃত্তি ও সাধারণ বৃত্তির কোটা বন্টন



2 thoughts on “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদন: ৫ ব্যাংকের একীভূতকরণ, ডিসেম্বরে কার্যক্রম শুরু”